
এখনই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে দোলপাড়া গ্রামের চার শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের এ গ্রামের বাসিন্দারা।
বাঁধটি অনেক আগে তৈরি উল্লেখ করে খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, “আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৩ সালে সিডিএমসি প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধটি সংস্কার করি।
“গত সপ্তাহে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা বরাবর প্রবাহিত হয়। নদীর পানি কমার সাথে সাথে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও দেড় থেকে দুইশ মিটার অংশ ভাঙনের মুখে রয়েছে।”
এদিকে, বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নয় বলে জানাচ্ছেন এ বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, “স্থানীয় লোকজন নদীর ভেতরে বাঁধটি নির্মাণ করেছে। বিষয়টি জানার পর পর্যবেক্ষণের জন্য গত রবিবার সেখানে একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয়রা জানান, তিস্তা নদীর কবল থেকে গ্রাম রক্ষায় ওই বাঁধ নির্মাণ করে ইউনিয়ন পরিষদ।
দোহলপাড়া গ্রামের আবু তালেব (৪৮) বলেন,“প্রায় এক সপ্তাহ আগে উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। পানি কমে যাওয়ায় এখন বাঁধটিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।”
এ গ্রামের মো. জামাল উদ্দিন (৭০) বলেন, “কেউ দেখতেও আসছেন না। এখন ওই ভাঙনের কবলে আমরা গ্রামবাসী ভিটামাটি হারানোর আতঙ্কে আছি।”
তারা জানান, বাঁধটি রক্ষা না হলে আসছে বর্ষায় নদীর পানিতে প্লাবিত হয়ে গ্রামের ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে। পাশাপাশি বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হবে এবং কয়েক হাজার একর আবাদি জমির ফসল নষ্ট হবে।



